বৈজ্ঞানিকভাবে সুখী হওয়ার ৫ উপায়

Google+ Pinterest LinkedIn Tumblr +

মানুষের জীবন ক্ষণস্থায়ী। এই ক্ষণস্থায়ী জীবনে ধনী কি গরীর প্রত্যেকেই সুখী হতে চায়। তবে চাইলেই কিন্তু সবার জীবনে সুখ ধরা দেয় না। সুখী হতে চাইলে জীবনে সচেতন প্রচেষ্টার প্রয়োজন আছে বলেই মনে করেন মনোবিজ্ঞানীরা। যুক্তরাষ্ট্রে ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ে মনোবিজ্ঞান এবং কগনিটিভ বিজ্ঞান বিভাগের একজন অধ্যাপক লরি স্যান্টোস বলেছেন, ‘বিজ্ঞানে এটা প্রমাণ হয়েছে যে সুখী হতে হলে সচেতন প্রচেষ্টার প্রয়োজন। এটা খুব একটা সহজ কাজ নয়, এ জন্যে সময় লাগবে।’
বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ের ওই অধ্যাপক পড়ান ‘মনোবিজ্ঞান ও সুন্দর জীবন’ বিষয়ে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩১৬ বছরের ইতিহাসে তার ক্লাস শিক্ষার্থীদের মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয়। তার ক্লাসে ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা প্রায় ১ হাজার ২০০। এটা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে একটি রেকর্ড। ইতিবাচক মনোবিজ্ঞানের উপর ভিত্তি করে এই কোর্সটি পরিচালনা করেন তিনি। এটা মনোবিজ্ঞানেরই একটি শাখা যেখানে সুখ এবং আচরণগত পরিবর্তনের বিষয়ে পড়ানো হয়। তিনি হয়তো জানেন যে সুখী হতে হলে কি করতে হবে? কিন্তু এসব তত্ত্ব আমরা কিভাবে আমাদের প্রতিদিনের বাস্তব জীবনে প্রয়োগ করতে পারবো?
এ প্রসঙ্গে অধ্যাপক স্যান্টোস বলেন, সুখী হওয়া বিষয়টি এমন নয় যে এটা আপনা আপনি হয়ে যায়। সুখী হওয়ার জন্যে আপনাকে এটা চর্চা করতে হবে। তিনি বলেন, ‘এটা অনেকটা ভালো সঙ্গীতশিল্পী বা ক্রীড়াবিদ হয়ে উঠার মতোই, সাফল্যের জন্যে তাদেরকে যেমন চর্চা করতে হয় সুখী হওয়ার ব্যাাপরেও আপনাকে সেটা করতে হবে।’
কিভাবে সুখী হতে হবে তার কিছু কলাকৌশল তিনি সপ্তাহে দুদিন শিক্ষার্থীদের শেখান। এ ক্ষেত্রে জীবনে আপনিও সুখী হতে চাইলে তার দেওয়া পাঁচটি টিপস মেনে চলতে পারেন-
১. কৃতজ্ঞতার একটি তালিকা তৈরি করুন
অধ্যাপক স্যান্টোস তার শিক্ষার্থীদের বলেন, প্রত্যেক রাতে তারা যাদের কাছে বা যেসব জিনিসের কাছে কৃতজ্ঞ তার একটি তালিকা তৈরি করতে। অধ্যাপক স্যান্টোস বলেন, ‘এটা শুনতে খুব সহজ মনে হতে পারে, কিন্তু আমরা দেখেছি যেসব শিক্ষার্থীরা নিয়মিতভাবে এটা চর্চ্চা করেন তাদের সুখী মনে হয়।’
২. নিশ্চিন্তে ঘুমাতে চেষ্টা করুন
এই কাজটা করা সবচেয়ে সহজ বলে মনে হলেও কিন্তু আসলে এটি করা খুব কঠিন, বলেন অধ্যাপক। এখানে চ্যালেঞ্জ হচ্ছে, প্রতি রাতে আট ঘন্টা করে ঘুমানো এবং এই কাজটা করতে হবে এক সপ্তাহ ধরে। অধ্যাপক স্যান্টোস বলেন, ‘আমরা সবাই জানি যে বেশি ঘুমাতে পারলে এবং নিশ্চিন্তে ঘুমাতে পারলে বিষণ্নতায় ভোগার সম্ভাবনা কম থাকে। এর ফলে ইতিবাচক মনোভাবও তৈরি হয়।’
৩. ধ্যান করুন
আপনার কাজ হবে প্রত্যেকদিন ১০ মিনিট করে মেডিটেট বা ধ্যান করা। অধ্যাপক স্যান্টোস বলেন, তিনি যখন ছাত্রী ছিলেন তখন তিনি নিয়মিত ধ্যান করতেন এবং দেখেছেন সেটা করলে মন ভালো থাকে। এখন তিনি একজন অধ্যাপক, তিনি তার শিক্ষার্থীদের শেখাচ্ছেন কিভাবে ধ্যান করতে হয়। তিনি বলেন, এ ধরনের কাজে পূর্ণ মনোযোগ দিতে হয় যা মানুষকে সুখী হতে সাহায্য করতে পারে।
৪. পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে আরও বেশি সময় কাটান
অধ্যাপক স্যান্টোস বলেছেন, গবেষণায় পরিষ্কার একটি বিষয় দেখা গেছে- পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে ভালো সময় কাটালে আপনি সুখী হবেন। আপনার যদি ভালো বন্ধুত্ব থাকে ও সামাজিক যোগাযোগ থাকে এবং তাদের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ হয় তখন তারা উল্লেখযোগ্য রকমের ভালো বোধ করেন। এ জন্যে যে খুব বেশি কিছু করতে হবে তা নয়। এ ব্যাপারে অধ্যাপক স্যান্টোস বলেন, শুধু এটা নিশ্চিত করুন যে আপনি এই সময়ে বেঁচে আছেন, মনে করুন যে আপনারা একসঙ্গে বর্তমান সময় কাটাচ্ছেন এবং আপনি কিভাবে আপনার সময় কাটাচ্ছেন সে বিষয়ে একটু সচেতন থাকুন। তিনি বলেন, আপনার সুখী হওয়ার জন্যে সময় সম্পর্কে আপনার ধারণা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
‘আমাদের কত অর্থ আছে সেটা দিয়ে আমরা প্রায়শই আমাদের সম্পদের হিসাব করি। কিন্তু গবেষণায় দেখা গেছে, সম্পদ হচ্ছে আসলে আমাদের হাতে কত সময় আছে সেটার সঙ্গে সম্পর্কিত,’ বলেন তিনি।
৫. সোশাল মিডিয়ায় যোগাযোগের পরিবর্তে বাস্তবে যোগাযোগ বাড়ান
অধ্যাপক স্যান্টোস মনে করেন, সোশাল মিডিয়া থেকে সুখের বিষয়ে মিথ্যা যেসব ধারণা পাওয়া যায় সেসবে ভেসে যাওয়া উচিত নয়। সর্বশেষ গবেষণায় দেখা গেছে, যারা ইন্সটাগ্রামের মতো সামাজিক নেটওয়ার্কের মাধ্যম ব্যবহার করেন তারা, যারা এটা খুব বেশি ব্যবহার করেন না তাদের চাইতে কম সুখী, বলেন তিনি।
কাজেই আপনিও যদি সত্যিই জীবনে সুখী হতে চান, তাহলে কৃতজ্ঞ হতে শুরু করুন, পরিবারের সঙ্গে আরও বেশি সময় কাটান, বন্ধুদের সঙ্গে মেলামেশা করুন, দিনের একটা সময়ে কিছুক্ষণের জন্যে নিজেকে সবকিছু থেকে সরিয়ে ধ্যানে মগ্ন হউন, সোশাল মিডিয়া থেকে দূরে সরে এসে আরও একট বেশি ঘুমাতে চেষ্টা করুন। তবে জীবনে আপনিও সুখী হতে পারবেন।
 

Share.

Leave A Reply