বই কেনায় পাঠকরা ঠকছেন যেভাবে

Google+ Pinterest LinkedIn Tumblr +

বাংলা একাডেমির নীতিমালার কারণে বইয়ের পাঠকরা ঠকে যাচ্ছেন। বাংলা একাডেমির বইমেলায় প্রকাশকরা বই বিক্রি করছেন ২৫ শতাংশ কমিশনে। বাংলা একাডেমি বই বিক্রি করছে ৩০ শতাংশ কমিশনে। কিন্তু প্রকাশকরা যখন পাইকারিভাবে বই বিক্রি করছেন, তখন তারা কমিশন দিচ্ছেন ৩৫ থেকে ৪০ শতাংশ। কোনো কোনো ক্ষেত্রে এই হার ৪৫ শতাংশও হয়ে থাকে। বাংলা একাডেমিও পাইকারিভাবে বই বিক্রি করছে ৩৫ শতাংশ কমিশনে। তবে বাংলা একাডেমি আগের প্রকাশিত বইগুলো ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ কমিশনে পাঠকের কাছে বিক্রি করছে। কিন্তু অন্য প্রকাশকরা ২৫ শতাংশের কমে বই বিক্রি করছেন না। ফলে পাঠকরা ঠকে যাচ্ছেন।
প্রকাশকরা জানান, দেশে সারা বছর পাঠ্যবই ছাড়া অন্যান্য যে বই বিক্রি হয়, তার ৭০ শতাংশই বিক্রি হয় বাংলা একাডেমির মাসব্যাপী অমর একুশে গ্রন্থমেলার সময়। বাকি ৩০ শতাংশ বিক্রি হয় পুরো বছরে। যে কারণে সৃজনশীল বইয়ের একটি বড় অংশই বিক্রি হয় মেলার সময়।
প্রকাশকরা পরিবেশকদের কাছে ৩৫ থেকে ৪৫ শতাংশ কমিশনে বই বিক্রি করেন। এ কমিশন পাঠকদের একুশের বইমেলায় দিলে বইয়ের দাম যেমন কম হতো, তেমনি বিক্রিও বেশি হতো। বইয়ে বিনিয়োগ করা পুঁজির বড় অংশ তাদের মেলা থেকে উঠে আসত। কিন্তু সেটা না হওয়ায় পাঠকরাও ঠকে যাচ্ছেন। আবার প্রকাশকদের পুঁজিও আটকে থাকছে।
এদিকে বইমেলায় কত কমিশনে বই বিক্রি হবে, তা নির্ধারণ করে বাংলা একাডেমি ও প্রকাশকরা যৌথভাবে। অনেক প্রকাশক পাঠকদের কাছে মেলায় বই বিক্রির কমিশন বাড়াতে চাইলেও তারা পারছেন না। কেননা নির্ধারিত কমিশনের বাইরে মেলায় বই বিক্রির সুযোগ নেই। বাংলা একাডেমির নীতিমালার কারণে বইয়ের পাঠকরা ঠকে যাচ্ছেন। ৃ
এ বিষয়ে বাংলার প্রকাশনের আহসান আল আজাদ বলেন, কমিশন বেশি দিলে বেশি বই বিক্রি হবে। কিন্তু সেটি বড় প্রকাশকরা দিতে চাচ্ছেন না। কেননা তারা বড় বড় লেখকের বই প্রকাশ করেন। এগুলো বেশি বিক্রি হয়। যে কারণে বেশি কমিশন দিলে তাদের লোকসান।

Share.

Leave A Reply