বইয়ের দাম বেড়েছে ১৫ শতাংশ

Google+ Pinterest LinkedIn Tumblr +

কাগজ, কালি, কম্পোজ, ছাপার দাম বাড়ার কারণে প্রতিবছর বইয়ের দাম বাড়ছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে উদ্যোক্তারা নিজ উদ্যোগেও বেশি মুনাফার আশায় বইয়ের দাম বাড়িয়ে দিচ্ছেন। এবার গত বছরের তুলনায় বইয়ের দাম বেড়েছে কমপে ১৫ শতাংশ। কোনো কোনো ক্ষেত্রে আরও বেশি। গত বছর বইয়ের দাম বেড়েছিল ১০ শতাংশ। গত বছরের চেয়ে এবার বইয়ের দাম বেড়েছে ৫ শতাংশ বেশি। বইয়ের দামের ব্যাপারে সরকারের কোনো নীতিমালা না থাকার কারণে প্রতিবছরই বইয়ের দাম লাগামহীনভাবে বাড়ছে।
গত বছরের তুলনায় এ বছরে বইয়ের সব ধরনের উপকরণের দাম বেড়েছে। এর মধ্যে কাগজ, কালি, ছাপার খরচ, কর্মচারীদের বেতন-ভাতা সবকিছুই বেড়েছে। এ ছাড়া বইয়ের দাম বাড়ানোর বিষয়ে সরকারের কোনো নীতিমালা নেই। ফলে প্রকাশকরা ভালো লেখকের বইয়ের দাম বেশি বাড়িয়ে দিচ্ছেন।
গত বছর ১৬ পৃষ্ঠার এক ফর্মায় খরচ হতো ৩০ টাকা। এবার তা ৩৫ টাকা হয়েছে। মান ভালো করতে গিয়ে এবং লেখককে বেশি সম্মানী দিতে গিয়ে প্রতি ফর্মার খরচ ৪০ টাকাও পড়ছে। এ হিসাবে চার ফর্মার ৬৪ পৃষ্ঠার একটি বইয়ের খরচ পড়ছে ১৪০-১৬০ টাকা। এর সঙ্গে প্রকাশকের মুনাফা ১৫ শতাংশ এবং বিক্রেতার কমিশন ৩৫ শতাংশসহ ওই বইয়ের দাম পড়ছে ১৮৫-১৯০ টাকা। কিন্তু এসব বইয়ের দাম অনেক প্রকাশক ২০০-২৫০ টাকাও রাখছেন। প্রকাশকরা জানান, মেলা উপলক্ষে যে বই তারা প্রকাশ করেন, তার সব কপি বিক্রি হয় না। যে কারণে পুঁজি আটকে থাকে। এখন বই প্রকাশের ক্ষেত্রে এটিও বিবেচনায় নিতে হয়। যে কারণে বইয়ের দাম বাড়ছে। শ্রাবণ প্রকাশনীর রবিন আহসান জানান, বইয়ের দাম নির্ধারণের ক্ষেত্রে একটি নীতিমালা থাকা প্রয়োজন। কোন লেখকের বইয়ের দাম কী হবে। তাহলে দামের ক্ষেত্রে নৈরাজ্য আসবে না। বিশেষ করে নতুন লেখকদের বই বেশিরভাগই পুশসেল হয়। যে কারণে তারা বইয়ের দাম বেশি রেখে ক্রেতাদের ঠকাচ্ছে। বিষয়টি বাংলা একাডেমি বিবেচনা করে দেখতে পারে। আর বইয়ের দাম যে প্রকাশনী যাই-ই রাখুক না কেন, এগুলোর দেখার কেউ নেই।

Share.

Leave A Reply