প্রতিরাধে সর্বাত্মক চেষ্টা চালাতে হবে

Google+ Pinterest LinkedIn Tumblr +

আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন জোট সরকার ২০০৯ সালে ক্ষমতায় আসার পর থেকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে আছেন নুরুল ইসলাম নাহিদ। সাবেক এই বাম নেতা পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির জন্য সর্বমহলে আদৃত ও গ্রহণযোগ্য ছিলেন। তার সময় অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ হয়েছে, বিপুলসংখ্যক শিক্ষক এমপিওভুক্ত হয়েছেন এবং সহস্রাব্দ লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে শিক্ষায় বাংলাদেশের অগ্রগতি ছিল সন্তোষজনক। তার সুদক্ষ নেতৃত্বে প্রাথমিকে ছাত্র ভর্তির হার প্রায় শতভাগে পৌঁছেছে, ঝরে পড়ার হার কমেছে, সব স্কুলে ছাত্রদের বিনামূল্যে বছরের প্রথম দিনে বই দেওয়ার মতো কষ্টসাধ্য কাজ সাফল্যের সঙ্গে বাস্তবায়িত হয়েছে। বর্তমানে বইয়ের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩৬ কোটি। আবার সব বইয়ের পাঠ্যাংশ ও মুদ্রণ মান উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ছাত্ররা বছরের প্রথম দিনে নতুন ঝকঝকে বই পেয়ে অত্যন্ত আনন্দিত হয়। এটি ইতিবাচক বাংলাদেশের সবচেয়ে সুন্দর ও তৃপ্তিদায়ক চিত্র।
কিন্তু তার আমলে প্রশ্নপত্র ফাঁস এক মারাত্মক ব্যাধি হিসেবে দেখা দিয়েছে। এর আগে নোটবই ও কোচিংবাণিজ্য বন্ধ করার প্রয়াসেও তিনি সফল হননি। কঠোর আইন কিংবা পুলিশি অভিযান চালিয়েও বেআইনি এসব তৎপরতা বন্ধ করা যায়নি। তবু মনে হয়, আমাদের দেশে প্রাইভেট পড়ানো বা টিউশনি এবং নোটবইয়ের ঐতিহ্য বহু পুরনো। টিউশনি প্রায় প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা চালু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই অন্তত দুইশ বছর আগে শুরু হয়েছিল। পরে প্রতিযোগিতার মাধ্যমে ভালো ফলের আশায় শিক্ষক ও অভিভাবকদের তৎপরতায় নোটবই জনপ্রিয় হয়। এ ক্ষেত্রে শিক্ষকদের অদক্ষতাও বহুলাংশে দায়ী। তাদের ঘাটতি নোটবই-গাইড বইয়ের মাধ্যমে তারা পুষিয়ে নেন। আবার উচ্চতর পর্যায়ের বহু ছাত্র তাদের শিক্ষার খরচ জোগাড় করে থাকে টিউশনির মাধ্যমে। এদিকে দেশে এখনো অনেক পরিবার আছে যাদের মাত্র প্রথম প্রজন্ম প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা নিচ্ছে। অনেক পরিবারে বাবা-মায়ের পক্ষে উপার্জনে ও সাংসারিক কাজের ব্যস্ততায় সন্তানের শিক্ষায় সহায়তা দেওয়া সম্ভব হয় না। এসব কারণে বহুদিনের পুরনো এসব ব্যবস্থা সহজে বন্ধ হওয়ার নয়। কিন্তু কোনো অবস্থাতেই প্রশ্নফাঁস সহ্য করা যায় না। আমাদের মনে হয়, শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও এর অধীনস্থ সব অধিদপ্তর ও অন্যান্য অফিসে দুর্নীতি ও অনিয়ম নির্মূলে কাজ করতে হবে। শোনা যায়, এসব দপ্তরে দুর্নীতি প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি অর্জন করেছে, যার প্রমাণ মিলেছে দুর্নীতির দায়ে মন্ত্রণালয়ের দুজন কর্মকর্তা গ্রেপ্তারে। এবার সংসদে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি ওঠার পর স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী এদিকে মনোযোগ দিয়েছেন। আমরা আশা করব সর্বাত্মক শক্তি প্রয়োগ করে প্রশ্নফাঁস অবিলম্বে রোধ করা যাবে।
 

Share.

Leave A Reply