জমি অধিগ্রহণে ঘনবসতি এলাকা বাদ দেওয়ার দাবি চরবাসীর

Google+ Pinterest LinkedIn Tumblr +

ইংল্যান্ডের টেমস নদীর তীরে গড়ে ওঠা লন্ডন শহরের আদলে বাংলাদেশের ব্রহ্মপুত্রের তীরে আন্তর্জাতিক মানের সুযোগ-সুবিধাসংবলিত পরিকল্পিত নয়া ময়মনসিংহ বিভাগীয় শহর গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এই মহতী উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে ময়মনসিংহে ব্রহ্মপুত্রের চরাঞ্চলের বসতভিটা রক্ষা কমিটির নেতারা বলেছেন, তারাও নতুন বিভাগীয় শহর চান। এ ক্ষেত্রে পূর্ণ সহযোগিতা করবেন তারা। তবে শহরের জন্য জমি অধিগ্রহণের ক্ষেত্রে বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর স্বার্থে ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা বাদ দিতে হবে। গতকাল শনিবার এ প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপকালে তারা এ কথা বলেন।
চরাঞ্চলের বসতভিটা রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক উপাধ্যক্ষ সৈয়দ মোশাররফ হোসেন বাচ্চু, যুগ্ম আহ্বায়ক শহীদুল ইসলাম, অধ্যাপক আব্দুল কাদির রিপন, ডা. হারুন অর রশিদ, শাহ আলম বাদশা (মেম্বার), গোলাম কিবরিয়া, ইঞ্জিনিয়ার কাজী রফিকুল ইসলাম, আয়ুব আলী, আবুল মুনসুর, সবুজ মিয়াসহ কয়েকজন জানান, কোনো কোনো মিডিয়ায় উদ্দ্যেশ্যমূলকভাবে প্রচার করা হচ্ছে, চরাঞ্চলবাসী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রতিশ্রুত নতুন বিভাগীয় শহর স্থাপন করতে দেবে না। আসলে এটা ডাহা মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। এসব কথাবার্তা শেখ হাসিনার কাছে চরাঞ্চলবাসীকে চরম হেয়প্রতিপন্ন করারই শামিল।
চরাঞ্চলবাসী আরও জানান, অধিগ্রহণের জন্য প্রস্তাবিত এলাকার বিভিন্ন মৌজার জমির মূল্যের বেশ তারতম্য রয়েছে। যেমন চরদুর্গাপুর মৌজার প্রতিশতাংশ জমির দাম চরঈশ্বরদিয়ার প্রায় বিশ ভাগের এক ভাগ। এই বিশাল তারতম্য কীভাবে মীমাংসিত হবে, সে প্রশ্ন উঠেছে। তা ছাড়া অধিগ্রহণের জন্য প্রস্তাবিত এলাকায় এ পর্যন্ত বাস্তব ও প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের পরিসংখ্যান করা হয়নি। বসবাসকারী মানুষ, ঘরবাড়ি ও গাছপালাসহ অন্য সব ধরনের হিসাব-নিকাশ করা হয়নি। যার পরিপ্রেক্ষিতে ক্ষতিগ্রস্তরা প্রকৃত ক্ষতিপূরণ না পাওয়ার আশঙ্কা করেছে। এসব বিষয়ে প্রশাসন কীভাবে সমাধান করবে, তার সঠিক উত্তর জানে না চরাঞ্চলবাসী।
চরাঞ্চলবাসী জানান, নতুন শহরের জন্য কর্মকর্তারা সরেজমিন পরিদর্শন ছাড়াই ঘনবসতিপূর্ণ চরভবানীপুর মৌজায় প্রায় ১ হাজার ৫৪০ একর, চরগোবিন্দপুর মৌজায় ৭০০ একর এবং চরদুর্গাপুর মৌজায় ১৪০ একর জমি অধিগ্রহণের প্রস্তাব করেন। এই তিন মৌজার মোট ২ হাজার ৩৮০ একর ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা বাদ দিয়ে পূর্বের নকশা অনুযায়ী শম্ভুগঞ্জ চায়না মোড়ের উত্তরের খালি মাঠ, চরঈশ্বরদিয়ার ছাইত্তান কান্দা মাঠ, চরগোবিন্দপুরের ফাঁকা জায়গা, পাড়া লক্ষীরালগী, চরজেলখানা মৌজার পুরো এলাকা, চরসিরতার আংশিক ও দুলালবাড়ির চর দিয়ে ব্রহ্মপুত্র নদের তীরঘেঁষে পশ্চিমে চরহাসাদিয়া পর্যন্ত বিস্তীর্ণ খালি মাঠে শহর সম্প্রসারণ করা যাবে। তাতে প্রশাসনের দেওয়া প্রস্তাবিত শুধু ৪ হাজার ৩৬৬ একর জমিই নয়, আরও প্রায় ১০ হাজার একর জমি অধিগ্রহণ করলেও চরাঞ্চলের জনগণ তাতে স্বপ্রণোদিত ও স্বতঃস্ফূর্তভাবে সহযোগিতা প্রদান করবে। উল্লেখিত এলাকায় জমি অধিগ্রহণে কেউ বাধা প্রদানের চেষ্টা করলে আমরা এলাকাবাসীকে সঙ্গে নিয়ে তাদের প্রতিহত করব ঐক্যবদ্ধভাবে।
এ ব্যাপারে ময়মনসিংহের বিভাগীয় কমিশনার জিএম সালেহ উদ্দিন এবং জেলা প্রশাসক মো. খলিলুর রহমান (যুগ্ম সচিব) বলেছেন, নগর উন্নয়ন অধিদপ্তর প্রস্তাবিত নকশা ইতোমধ্যেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে উপস্থাপন করা হয়েছে। তিনি এটাকে সায় দিয়েছেন। বর্তমানে ওই অঞ্চলের লোকজন যে বিকল্প প্রস্তাবনা দিয়েছেন, সেটা পরিবর্তন করা আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়।
 

Share.

Leave A Reply